দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির ভোটারদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি প্রত্যাখ্যান এবং ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রস্তাব গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার ২৫ পৃষ্ঠার এক খোলা চিঠিতে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে এ আহ্বান জানায় ইরানের এই প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী।
চিঠিতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে যুদ্ধের বিরোধিতা করতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে।
চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি গোপন করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। পাশাপাশি পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহনে ইরানের অবরোধ কার্যকর বলেও দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এই চিঠি মার্কিন প্রশাসনের আচরণে প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা করছেন না। তবে মার্কিন ভোটাররা ইরানের এই বার্তা শুনতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
মোহেব্বি বলেন, ‘মার্কিন জনগণ অনেক ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। আমরা বিশ্বাস করি, তারা যদি আরও বেশি জানতেন, তাহলে ভিন্নভাবে ভাবতেন এবং অন্য সিদ্ধান্ত নিতেন।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কারণ হিসেবে ট্রাম্প যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশটি যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, চাইলে তিনি ইরানকে ‘ধ্বংস’ করতে পারেন।
তবে মোহেব্বি বলেন, ‘শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র) জানে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটছে না।’
এরপর ট্রাম্পকে তীব্রভাবে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশটির সেনাসদস্যদের জীবন এমন একজনের হাতে ন্যস্ত, যিনি শুধু দীর্ঘদিনের মিথ্যাবাদীই নন, বরং অস্বাভাবিকভাবে লোভী একজন মানুষ, যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য আরও বেশি সম্পদ অর্জন।’
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন আইআরজিসির মুখপাত্র। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী উপসাগর থেকে তেল নিয়ে যাওয়া কিছু ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হলেও তাতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হয়ে গেছে, এমনটা বলা যায় না।
মোহেব্বির ভাষ্য, ‘আমেরিকানরা যদি অনেক খরচ, বিপুল ঝুঁকি ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাতের আঁধারে ছোট একটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করে ১০০ বা ২০০ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পারে, তার অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি উন্মুক্ত।’
কে-প্লারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানিতে কিছুটা পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। এ মাসে এ পথে তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১ কোটি ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে, যা যুদ্ধের আগে থাকা পরিমাণের প্রায় অর্ধেক।
/অ